পুলিশ কনস্টেবলের তাণ্ডবের অতিষ্ঠ এলাকাবাসী
নিজস্ব প্রতিনিধির রিপোর্ট
09/06/2023:
পুলিশ নাকি,গুন্ডা। রক্ষক নাকি ভক্ষক এই নিয়ে রাজনগর ব্লক জুড়ে চলছে গুঞ্জন। খাকি উর্দি যখন গায়ে উঠে তখন রক্ষা কর্তা হিসেবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব পালন করার থাকলেও, সেই খাঁকি উর্দিধারীরা আজ রক্ষা কর্তা না হয়ে রাতের আধারে তল্লাশির নামে হামলা চালিয়ে ঘরের জিনিসপত্র তছনছ করার অভিযোগ উঠল। তৎসঙ্গে, ওই বাড়ীর গৃহবধূর গায়ে হাত দেওয়ার মত গুরুতর অভিযোগ উঠে এল রাজনগর ব্লকের ভারত বাংলা সীমান্ত রাধানগর এলাকার লক্ষ্মী সাহা পাড়াতে। জানা গেছে, ছিল না আদালতের কোন সার্চ ওয়ারেন্ট। ওই সার্চ ওয়ারেন্ট ছাড়াই কি করে আপন উচাই নামে এক পুলিশ কনস্টেবল সহ আরো কিছু পুলিশ কর্মীরা, তল্লাশির নামে রাতে ঘরে ঢুকে লোকজনদের হয়রানি এবং গৃহবধূর গায়ে হাত দেওয়া সহ ঘরের জিনিসপত্র লন্ডভন্ড করল, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। এই আপন উচাই রাঙ্গামুড়া ফাঁড়িতে পুলিশ কনস্টেবল পদে কর্মরত। অবৈধ নেশা পাচারকারীদের সাথে সখ্যতা রয়েছে তার, যা কান পাতলেই বজ্রসম আওয়াজে শোনা যায়। মাসে মাসে হাপ্তার বিনিময়ের আদান প্রদানে মাহির পুলিশ কনস্টেবল আপন উচাই। পিআরবাড়ি থানা সহ রাঙ্গামুড়া ফাঁড়ির বড়ো মাপের পুলিশ আধিকারিকের হাত মাথায় থাকার কারণে নাকি, পুলিশ কনস্টেবল আপন উচাইয়ের এই বাহুবলিগিরি আর গুন্ডাগিরি। অভিযোগ যখন তখন ঢুকে যাচ্ছে মানুষের বাড়িঘরে, তল্লাশির নামে চলছে গৃহবধূর গায়ে হাত দেওয়া এবং বাড়ি ঘরের জিনিষপত্র লন্ডভন্ড করা থেকে শুরু করে অযথা হয়রানি করা। এমনকি বাড়ির মালিক অনুপস্থিত থাকা সত্ত্বেও ঘরের তালা ভেঙ্গে ঘরের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে পিআরবাড়ি থানার অন্তর্গত রাঙ্গামুরা ফাড়ির কিছু খাকি উর্দিধারীরা এমনই অভিযোগ রয়েছে জনমানসে। এই বিষয়ে ক্ষুব্ধ লক্ষ্মী সাহা পাড়ার বাসী বিষ্ণু কান্তি দে আদালতে মামলা দায়ের করতে যাচ্ছেন। এই বিষ্ণু কান্তি দের বাড়ীতে নাকি, পুলিশ কনস্টেবল আপন উচাই সহ কয়েকজন পুলিশ কর্মীরা কোন কারন ছাড়াই, মঙ্গলবার গভীর রাতে হঠাৎ তল্লাশি চালায়। এই তল্লাশির নামে রাতভর চলল বাড়ির জিনিষপত্র লন্ডভন্ড করা সহ বিষ্ণু কান্তি দের পরিবারের লোকদের হয়রানী, আর এমনটাই অভিযোগ রয়েছে। আরো অভিযোগ বিষ্ণু কান্তি দের বাবা শিলচরে অবস্থান করছেন চিকিৎসার কারণে। পুলিশের সাথে নেশা কারবারি দের গোপন বোঝাপড়া বজায় রেখে, সাধারণ মানুষদের উপর তল্লাশির নামে হয়রানির ঘটনাকে ঘিরে ছিঃ ছিঃ রব উঠছে। প্রশ্ন হলো, পুলিশের কাছে বিষ্ণু কান্তি দের বিরুদ্ধে যদি কোন অভিযোগ থেকেই থাকে, তাহলে রাতে কেন তল্লাশি? আর যদিওবা তল্লাশি চালানোর প্রয়োজন ছিল, তাহলে উচ্চ পর্যায়ের কোন পুলিশ আধিকারিক এই কাজ করতে পারতেন, কিন্তু, আদালতের সার্চ ওয়ারেন্ট না নিয়ে, পুলিশ কনস্টেবল আপন উচাইয়ের এই তল্লাশির নাম বইজ্জাতি কতখানি গ্রহণযোগ্য, প্রশ্নই উঠছে রাজনগর ব্লক জুড়ে।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন