TRIPURA PIONEER BLOG
(A LEADING NEWS BLOG OF TRIPURA)
আশি বর্ষীয়া কাকচাঁদ'কে বিশের টগবগ যৌবনসম্পন্না যুবতীর রূপ প্রদানে মরিয়া চপলা-প্রদীপ জুটি, চলছে অধিবাস
উত্তম সিনহার রিপোর্ট: 27.11.2023
জনসাধারণের সহযোগিতায় কাকচান্দ নামক দীঘিটিকে, যেন এক আশি বর্ষীয়া বৃদ্ধাকে দা-কোদাল দিয়ে চেষে পুরো বিশ বর্ষীয়া যৌবনসম্পন্না টগবগে যুবতীর রূপ দিতে, রূপকারে ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন চপলা প্রদীপ জুটি। এমনই রূপকার ছিলেন পুরাতন ত্রিপুরা আর্ট কলেজের ফাইন আর্টের খুরধার, প্রয়াত দুই চিত্রকার আর্টিস্ট সত্যেন চক্রবর্তী ও ভাষ্কর্য শিল্পী বিপুল কান্তি সাহা। আর্টিস্ট সত্যেন চক্রবর্তীকে উল্টো লটকিয়ে দিলেও ঠিক নিখুঁত ছবি আঁকতেন ক্যানভাসে। আর প্রয়াত ভাষ্কর্য শিল্পী বিপুল বাবু ঢলা মাটিকে থপ-থপ করেই অসাধারণ নিদর্শন গড়তেন বলে কথিত আছে। ওই ধারাটিই বর্তমানে কৈলাসহরে লেগেছে।
কৈলাসহরের স্মৃতি বিজড়িত সেই কাকচান্দ দীঘিকে জঞ্জাল মুক্ত করতে পুর পরিষদ সহ মহকুমা প্রশাসনের ইতিবাচক পদক্ষেপে একপ্রকার অক্সিজেনের ভান্ডার পড়েছে। স্থানীয় RKI শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঠিক পশ্চিমে অবস্থিত ওই কাকচান্দ দীঘিটিকে আবর্জনামুক্ত সহ আমজনতা কর্তৃক ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা দেবরায় ও SDM প্রদীপ সরকার এগিয়ে আসেন। মহকুমাবাসির সাহায্য চেয়ে সোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়।সঠিক প্ল্যাটফর্ম পেতেই বহু সংস্থা এগিয়ে আসেন, ঝাঁপিয়ে পড়েন শনিবার পঁচিশ নভেম্বর সকাল ছয়টায়। বহু বছর যাবৎ অবহেলা ও অনাদরে কাকচান্দ দীঘিটি একপ্রকার, ঠাকুরমার ঝুলি কাহিনীর অশীতিপর দন্তহীন ও খসখসে চর্মের ঠাকুরমার রূপ নিয়েছিল। কচুরিপানা, পূজার্চনা ইত্যাদির ফেলে দেওয়া ফল-ফুল, মদের বোতল, চপ্পল স্যান্ডেলর আতুরঘরের রূপ নিয়েছিল কাকচান্দ।
চপলা ও প্রদীপ জুটির কল্যাণে ও আপামর শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষের ঐকান্তিক সহযোগিতায়, শনিবারেই ওই কাকচান্দের শনিদশা কাটানো হয়। দীঘিটির প্রায় চল্লিশ শতাংশ ভাগ আভর্জনা মুক্ত হলেও কাজ বাকি। শেষটা দেখতে চাইছেন চপলা-প্রদীপ জুটি। তাদের ওই অদম্য ইচ্ছা ও কৈলাসহরকে একটি স্বচ্ছ দীঘি উপহার দেবার প্রয়াসে পা মিলিয়েছে শ্রীকৃষ্ণ ট্রাস্ট। সোমবার দীঘিটি পরিদর্শনে যান SDM প্রদীপ সরকার ও উনার টিম সহ শ্রীকৃষ্ণ ট্রাস্টের চেয়ারম্যান বাসুদেব চন্দ্র দাস। মহকুমা প্রশাসনকে কাছে রেখেই বাসুবাবু জানান যে ২৮ নভেম্বর মঙ্গলবার সকাল দশটায়, ট্রাস্টের পক্ষ থেকে প্রায় পনেরজন শ্রমিক দীঘি উদ্ধারে নামবেন। প্রয়োজনে আরো বাড়তি শ্রমদান যোগাবে ট্রাস্ট। পাশাপাশি শহরের সৌন্দর্যায়ন বৃদ্ধিতে যেন সবাই এগিয়ে আসেন। পাশাপাশি পুকুরের গুরুত্ব সম্পর্কেও তিনি বক্তব্য তুলে ধরেন। এছাড়াও মহকুমা শাসক প্রদীপ সরকার ঐ কাকচান্দ দীঘিকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন।
মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন