রাজভবনে সামরিক ইউনিটগুলিকে সম্মাননা: রাজ্যপালের হাতে সম্মানিত ৩৫ অসম রাইফেলস ও ৬৩৭ সাটা ব্যাটারি

ছবি
  মণি দেবনাথ আগরতলা, ত্রিপুরা আগরতলা: ১১ই মে রাজভবন (লোক ভবন)-এ আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ ‘ইউনিট অ্যাপ্রিসিয়েশন’ অনুষ্ঠানে ত্রিপুরার মাননীয় রাজ্যপাল Indra Sena Reddy Nallu ভারতীয় সেনাবাহিনী ও অসম রাইফেলসের বিশিষ্ট ইউনিটগুলিকে তাদের বীরত্ব ও অসামান্য পরিষেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ‘প্রশংসাপত্র’ প্রদান করে সম্মানিত করেন। সচিব ইউ.কে. চাকমা ও ব্রিগেডিয়ারের বক্তব্য অনুষ্ঠানের সূচনায় রাজ্যপালের সচিব U.K. Chakma বিশেষ বক্তব্য রাখেন। তিনি সামরিক বাহিনীর শৃঙ্খলা, কর্তব্যনিষ্ঠা এবং আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। এরপর ২১ সেক্টরের ব্রিগেডিয়ার এবং অন্যান্য জ্যেষ্ঠ সামরিক আধিকারিকরা বক্তব্য রাখেন। তাঁরা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন, কীভাবে এই ইউনিটগুলি সীমান্ত সুরক্ষা, সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান এবং নাগরিক সহায়তামূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে। ব্রিগেডিয়ার সেনা কর্মকর্তা ও জওয়ানদের কঠোর পরিশ্রমের প্রশংসা করে জাতীয় সুরক্ষার প্রতি তাঁদের অটল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সম্মানিত ইউনিটগুলি অসামান্য কর্মদক্ষতার জন্য রাজ্যপাল নিম্নলিখিত ইউনিটগুলিকে প্রশংসাপত্র ও পুরস্কার প্রদান করেন— ৩৫ অসম রাইফ...

রেনেসাঁর সূচনা প্রত্ন শহর কৈলাসহরে, উদ্যোক্তা মহকুমা শাসক প্রদীপ

  TRIPURA PIONEER BLOG

                   (A LEADING BLOG OF TRIPURA)

রেনেসাঁর সূচনা প্রত্ন শহর কৈলাসহরে, উদ্যোক্তা মহকুমা শাসক প্রদীপ

উত্তম সিনহার রিপোর্ট: 25.11.2023

PRADIP SARKAR, SDM, KLR ALONG WITH OTHERS

মহকুমা শাসক ও চেয়ারপার্সনের আহ্বানে শহরকে পরিষ্কার রাখতে সামাজিক দায়বদ্ধতা নিয়ে এগিয়ে এলেন কৈলাসহরবাসি। রাজ্যের পুরোনো শহরের মধ্যে একটি হল কৈলাসহর। বলা হয় বহূ পূর্বে এখানে রাজমহল ছিল। পাহাড় পর্বতের সবুজ বনানীতে ঘেরা এই ছোট্ট রাজ্য ত্রিপুরায় রয়েছে অনেক ইতিহাস। ঠিক এমনই এক ইতিহাস রয়েছে সংস্কৃতি ও প্রত্নতাত্ত্বিক এই শহর কৈলাসহরেও। কৈলাসহরের প্রাচীন দুটি দীঘি হচ্ছে কাতল দীঘি ও কাকচাঁদ দীঘি। মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের উত্তরেই কাতল দীঘি ও RKI মহাবিদ্যালয়ের পশ্চিমে কাকচাঁদ দীঘি বর্তমান। প্রাচীন এই দুই জলাশয়কে ঘিরে ইতিহাসাশ্রয়ী একটি কিংবদন্তী প্রচলিত রয়েছে।অতীতে  কাতল ও কাকচাঁদ নামে বিত্তশালী দুই ভাই কৈলাসহরে বাস করতো। দাস বংশের সমৃদ্ধশালী হিসেবে অনেকে তাদের অভিহিত করেছেন। দুই ভাইয়ের মধ্যে ভ্রাতৃভাবের অভাব না থাকলেও দুই গৃহিনীর মধ্যে নিরন্তর ঝগড়াঝাটি লেগে থাকতো।

ফলে দুই ভাই আলাদা হয়ে যায়। বড় ভাই কাতল নগদ ধনসম্পত্তি ও ছোট ভাই কাকচাঁদ গোলা ভরা শস্যের অধিকারী ছিল। একবার দুই ভাই দেশ ভ্রমণে বের হলে এই অঞ্চলটি প্রচন্ড দুর্ভিক্ষের কবলে পড়ে। কোথাও খাদ্য নেই। কাতলের স্ত্রী তখন বাধ্য হয়ে কাকচাঁদের স্ত্রী'র কাছে যায়। কিন্তু ভীষণ দুঃসময়েও কাকচাঁদের স্ত্রী কোনরকম সাহায্য  দানে রাজি হয়নি। ফলে সন্তান সহ কাতলের স্ত্রী মারা যায়। দেশ ভ্রমণ শেষে  দুই ভাই ফিরে আসে। সমস্ত খবর শুনে কাতল শোকে মুহ্যমান হয়ে সমস্ত ধন সম্পদ নৌকায় চাপিয়ে নিজেরই খনন করা দীঘিতে আত্মহত্যা করে। সেই দীঘিই বর্তমানে ওই কাতল দীঘি। এদিকে কাকচাঁদও পুরো ঘটনার জন্য নিজের স্ত্রীকে দায়ী করে ও একই ভাবে নৌকায় শস্য সামগ্রী, স্ত্রী সন্তান সহ নিজের খনন করা দীঘিতে সলিল সমাধি প্রাপ্ত হন। ওই দীঘিই কাকচাঁদ দীঘি নামে আজও বিখ্যাত। এই কাহিনী রাজমালায় বিবৃত রয়েছে, কিন্তু এর কোন ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট নেই।
অনেকে অনুমান করে থাকেন, ঐ প্রবল দুর্ভিক্ষের কারনেই কৈলাসহর থেকে রাজধানী স্থানান্তরিত হয়েছিল এবং সমৃদ্ধশালী নগরী ধ্বংস প্রাপ্ত হয়। কাতল ও কাকচাঁদ নামক ওই দুই দীঘি আজও সাক্ষী হয়ে রয়েছে ভীষণ দুর্ভিক্ষের স্মৃতি নিয়ে। দীর্ঘ দিনের পুরোনো ওই দুই দীঘির মধ্যে বেশ কিছু দিন আগে পুর পরিসদের চেয়ারপার্সন চপলা রানী দেবরায় এবং মহকুমাশাসক প্রদীপ সরকারের ঐকান্তিক উদ্যোগে কাতল দীঘি পরিষ্কার করা হলেও কাকচাঁদ দীঘির দিকে নজর পড়েনি অনেকেরই। আর যার ফলে ওই কাকচাঁদ দীঘি অবহেলায় নোংরা আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে উঠে। তবে পুরোনো ঐতিহ্য রক্ষা এবং শহর সৌন্দর্যায়নে পুর পরিষদের চেয়ারপার্সন চপলা দেবী এবং মহকুমা শাসক প্রদীপ সরকারের নজর পড়ে অবহেলিত ওই কাকচাঁদ দীঘির দিকে। দুজনে মিলে যৌথভাবে সামাজিক মাধ্যমে কাকচাঁদ দীঘিকে পরিষ্কার করতে আহ্বান জানান কৈলাসহরবাসীর কাছে। আর মহকুমা শাসক এবং পুর এলাকার চেয়া
পার্সনের আহ্বানে সাড়া দেন শহরের বিভিন্ন ক্লাব এবং সামাজিক সংস্থা। সামাজিক দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা থেকে রাজন্য আমলের ওই দীঘি পরিষ্কারে এগিয়ে আসেন বহু সংস্থা সহ স্থানীয়রা ২৫ নভেম্বর শনিবার সকাল ৬টায়। শুরু হয় রাজন্য আমলের দীঘির সাফাই অভিযান। শহরের বিভিন্ন সংস্থা যেমন লায়ন্স ক্লাব, লিও ক্লাব, BSF,  Earth Key ফাউন্ডেশন, বি ফিট এন্ড ফিট আদার্স, আপদা মিত্র ভলান্টিয়ার, Go green, শ্রীকৃষ্ণ ট্রাস্ট, হ্যান্ডফুল সামাজিক সংস্থা, এনএসএস সহ চার শতাধীক মানুষ শ্রমদান করেন এবং প্রায় ত্রিশ শতাংশ আবর্জনা পরিষ্কার করা হয় ওই দীঘির। শুধু মাত্র সরকারী অর্থ খরচ না করে,
কিভাবে জন জাগরণের মাধ্যমে সকলকে একত্রিত করে শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা যায়, তার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন শহরের শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ। আগামী কিছু দিনের মধ্যেই ওই দীঘিকে সম্পূর্ণ রুপে পরিষ্কার করতে আগামী কয়েকদিন বিভিন্ন সংস্থা ও ব্যক্তিগতভাবে অনেকেই কিছু সাফাই কর্মী দিয়ে দীঘিটিকে সাফাই করার জন্য কথা দিয়েছেন মহকুমা শাসককে। শনিবার সকাল থেকে শহরের ৮নং ওয়ার্ডে অবস্থিত কাকচাঁদ দীঘিটিকে পরিষ্কার করা শুরু হয় বিভিন্ন সামাজিক সংস্থা ও এনজিওর হাত ধরে। সকাল থেকেই মহকুমা শাসক প্রদীপ সরকার, পুর এলাকার চেয়ারপার্সন চপলা দেবরায়, অতিরিক্ত মহকুমা শাসক নবকুমার জমাতিয়া, রাজ্য ওয়াকফ বোর্ডের চেয়ারপার্সন মবস্বর আলী সহ উপস্থিত ছিলেন আরো বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।

(REPORTED BY UTTAM SINHA, 19:42 IST)

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

খোদ মায়ের যন্ত্রনায় আত্মহননের পথ বেছে নিল এক সাংবাদিক

দুই বন্ধুর জোড়া খুন কাণ্ডে অভিযুক্ত ঝুটন চৌধুরী'কে আদালতে প্রেরণ

মনু নদীতে তলিয়ে যাওয়া যুবক ধর্মনগরের, উদ্ধার দেহ

अगरतला के प्रतापगढ़ विधानसभा क्षेत्र में अवैध रुप से बांग्लादेशियों के बसने की खबर

পঞ্চম নগর কান্ডে স্থানীয়দের পথ অবরোধ, বিক্ষোভস্থলে জেলা ও মহকুমা শাসক